আ'লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)'র তাকওয়া ও খোদাভীতি
আ'লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)'র তাকওয়া ও খোদাভীতিঃ-
ইমামে আহলে সুন্নাত আ'লা হযরত শাহ আহমদ রেযা খান বেরেলভী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)'র পুরো জীবনটাই শরিয়তে মুস্তফা ও সুন্নাতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )'র অনুসরণে সজ্জিত। তাঁর তাকওয়ার শান তো অনেক উপরে। তিনি তো খোদা তায়া'লার বাণী- “মুত্তাকি ব্যতীত কোনো অলিই নেই” মোতাবেক বড় মাপের অলিয়ে কামেল ছিলেন। এ বিষয়ে তাঁর জীবনে অনেক উদাহরণ পাওয়া যায়। নিম্নে একটি বর্ণনা পেশ করলাম মাত্র।
'বয়স তখন মাত্র সাড়ে তিন। পবিত্র রমযান মাসে রোযা রেখে ফেলেছেন ছোট্ট আ'লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা বেরেলভী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)। প্রচণ্ড গরমের কারণে বেলা বাড়ার সাথে সাথে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছেন তিনি। দুপুরে তাঁর সম্মানিত পিতা একটি পাত্রে কিছু ফিরনী নিয়ে তাঁকে নিয়ে একটি কামরায় ঢুকলেন। দরজা জানালা সব বন্ধ করে দিয়ে বললেন, ‘বাবা! খাও।' তিনি বললেন, ‘আমি তো রোযা রেখেছি।' পিতা বললেন, ‘বাচ্চাদের রোযা এতটুকুনই। খেয়ে নাও, আমি দরজা জানালা বন্ধ করেছি। কেউ দেখছে না, কেউ জানতে পারবে না।' শিশু আ'লা হযরত প্রত্যুত্তরে সম্মানিত পিতাকে বললেন, ‘বাবা যার নির্দেশে রোযা রাখছি তিনি তো দেখছেন।'
সুবহানাল্লাহ! যার শিশু বয়সে খোদাভীতির এমন অবস্থা, খোদা জানে প্রাপ্ত বয়সে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছেন।
যে বান্দার কলবে এ নিয়ামতটি জায়গা করে নিয়েছে যে, ‘আল্লাহ আমাকে দেখছেন' সে বান্দা সকল গুনাহ, অপরাধ, জুলুম, নির্যাতন ও সকল প্রকার খোদাবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে নিরাপদে থাকবে। যেটাকে হাদিস শরিফের ভাষায় এহসান বলা হয়েছে। “তুমি এমনভাবে ইবাদত কর যেমনটি তুমি তাঁকে দেখছ, যদিও তুমি তাঁকে দেখছ না; কিন্তু সে তোমাকে দেখছে” এ কথাটি হলো এহসানের ব্যাখ্যা, যা বুখারির হাদিস মর্মে বিবৃত। এ ইহসানের অপর নাম তাসাউফ।
(মাওলানা নাসিম বসতবি রচিত “মুজ্জাদ্দেদে ইসলাম”, প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ৪৩।আ'লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খাঁন বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি'র উপর আরোপিত অপবাদের জবাব,পৃষ্ঠা - ২০৬-২০৭)।

No comments